ডোনাল্ড ট্রাম্প, একজন ব্যবসায়ী থেকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি
ডোনাল্ড ট্রাম্প, একজন ব্যবসায়ী থেকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বৈচিত্র্যময় জীবন এবং ক্যারিয়ারের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। একজন সফল ব্যবসায়ী, টেলিভিশন তারকা এবং অবশেষে মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথচলা তার জীবনকে অনন্য করে তুলেছে। তার জীবনের বিভিন্ন দিক, ব্যবসা থেকে শুরু করে রাজনীতি, তাকে নিয়ে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে।
শৈশব এবং শিক্ষা: কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী পরিবারের সন্তান
ডোনাল্ড জন ট্রাম্পের জন্ম ১৯৪৬ সালে নিউইয়র্কে। তার বাবা, ফ্রেড ট্রাম্প, ছিলেন একজন সফল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার, যার কাছ থেকে তিনি ব্যবসার মূল শিক্ষা অর্জন করেন। ছোটবেলায় তিনি কঠোর এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবারিক পরিসরে বেড়ে ওঠেন। স্কুল জীবনে কিছুটা দুষ্টামি এবং চঞ্চলতার কারণে তাকে সামরিক স্কুলে পাঠানো হয়, যা তার জীবনে শৃঙ্খলার প্রভাব ফেলেছিল।
ব্যবসায়িক জীবনের শুরু: ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের উত্থান
কলেজ জীবন শেষে ট্রাম্প তার বাবার ব্যবসায় যোগ দেন এবং "দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন" এর নেতৃত্ব দেন। তিনি নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট জগতে নতুন বিনিয়োগ করেন এবং ঝুঁকি নিয়ে নতুন প্রজেক্ট শুরু করেন। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি বিলাসবহুল হোটেল, গল্ফ কোর্স, এবং রিসোর্ট তৈরিতে মনোযোগ দেন এবং নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
দ্য অ্যাপ্রেন্টিস": টেলিভিশন তারকা হিসেবে খ্যাতি অর্জন
২০০৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব রিয়েলিটি শো "দ্য অ্যাপ্রেন্টিস" চালু করেন, যেখানে তিনি প্রতিযোগীদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করিয়ে তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন করতেন। এই শো তাকে প্রচুর খ্যাতি এনে দেয় এবং তার "You’re Fired!" বাক্যটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই শো তাকে টেলিভিশনের মাধ্যমে আরও বেশি দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে, এবং তিনি একজন সাংস্কৃতিক আইকন হয়ে ওঠেন।
ট্রাম্পের টেলিভিশন ক্যারিয়ারের প্রভাব
"দ্য অ্যাপ্রেন্টিস" তাকে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে একটি পরিচিত মুখ করে তোলে, যা তার রাজনৈতিক জীবনে বিশেষ সহায়ক হয়ে ওঠে। টেলিভিশনে তার সাফল্য তাকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের ভিত্তি প্রদান করে।
রাজনীতিতে প্রবেশ: মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাহসী পদক্ষেপ
২০১৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির হয়ে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তার প্রচারণার মূল নীতি ছিল "আমেরিকা ফার্স্ট", যা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। অর্থনীতি, অভিবাসন, এবং করনীতি নিয়ে তার বক্তব্য আমেরিকান ভোটারদের একাংশকে আকৃষ্ট করে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে ৪৫তম মার্কিন রাষ্ট্রপতি হন।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতি
ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন সীমিতকরণ, চীন থেকে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, এবং অর্থনীতির পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাহসী এবং বিতর্কিত নীতি প্রণয়ন করেন। তার "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতির ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে ট্রাম্পের সাফল্য ও বিতর্ক
ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন দিক থেকে সাফল্য এবং বিতর্ক উভয়ই বয়ে এনেছে। যেমন, তিনি করনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার করেন এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কর কমিয়ে দেন। তার প্রশাসনের সময়ে বেকারত্বের হার কমলেও, অভিবাসন নীতির কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় তার প্রশাসনের সাড়া দেওয়ার ধরনও বিতর্কিত ছিল।
প্রধান সাফল্য: অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর সংস্কার
ট্রাম্পের সময়ে বেকারত্বের হার হ্রাস পায় এবং অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তার কর সংস্কার বিল কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে দেয়, যা অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়ক হয়।
বিতর্কিত নীতিমালা: অভিবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন এবং কিছু দেশ থেকে অভিবাসন সীমিত করেন। এছাড়াও, স্বাস্থ্যসেবা নীতি পরিবর্তন নিয়ে তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: রাজনীতিতে ফিরে আসার ইঙ্গিত
২০২০ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন। তবে তিনি ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তার সমর্থকরা তাকে ২০২৪ আবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় ,

Comments
Post a Comment